একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো তার প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার, ব্যবসা করার এবং মর্যাদার সঙ্গে পেশা পরিচালনার অধিকার। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই মৌলিক অধিকার সবার ভাগ্যে জোটে না। শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অনেকের ওপর নেমে আসে অর্থনৈতিক নিপীড়নের নির্মম ঘড়গ। অথচ একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির আসল চালিকাশক্তি হলো তার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্প খাত। যখন একটি দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকে, তখন নতুন নতুন বিনিয়োগের দুয়ার খোলে এবং দেশের সমৃদ্ধি বাড়ে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের উৎসব। এই ধরনের অপরাজনীতিতে হয়তো কোনো একটি দল সাময়িকভাবে লাভবান হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ভুলুন্ঠিত হয় দেশের স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের অধিকার। ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে এবং পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা রুগ্ন হয়ে পড়ে। এই সংকটের নেতিবাচক প্রভাব কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দল-মত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের ওপর সমভাবে পড়ে। দেশের অর্থনীতি যদি সবল ও টেকশসই থাকে, তবে সেখানে সব দলের, সব মতের- এমনকি ভিন্নমতের মানুষও মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়। ঠিক একইভাবে অর্থনীতি যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তার করাল গ্রাস থেকে কেউই রেহাই পায় না। সুতরাং যারা দেশের প্রচলিত নিয়ম কানুন মেনে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসায়ে ভালো করছেন এবং দিনরাত এক করে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছেন, তাদের মেধা ও পরিশ্রমকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সালাম জানানো উচিত।

একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন দেশে রাজনীতিতে ভিন্নমত বা আদর্শগত বিরোধ থাকতেই পারে। এটি কোনো দোষের নয়; বরং তা বহুদলীয় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্যরে অংশ। কিন্তু সেই রাজনৈতিক বিরোধের জেরে সফল ব্যবসায়ি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কারণ দেশের প্রতিটি ছোট-বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখ লাখ মানুষের রুটি-রুজি। এই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত দেশের বেকারত্বের অভিশাপ দূর করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মোট সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদন বলছে, দেশে প্রাতিষ্ঠানিক বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ভেতর বর্তমানে কর্মে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৭ কোটি মানুষ,যার সিংহভাগই বেসরকারি খাত কিংবা স্ব-কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ দেশের বেশির ভাগ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা অপরিহার্য।

উন্নত ও পরিপক্ক গণতান্ত্রিক বিশ্বে রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে ভিন্নমতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ কিংবা ধ্বংস করার কোনো নজির নেই। যুক্তরাজ্য কিংবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথাই ধরা যাক-সেখানে ক্ষমতার পালাবদল একটি নিয়মিত এবং স্বাভাবিক ঘটনা। লেবার পার্টি বা ডেমোক্র্যাটরা যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তারা ঘোর বিরোধী দল কনজারভেটিভ বা রিপাবলিকানপন্থীদের বড় বড় ব্যবসা ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দেখায় না, কোনো অন্যায্য হস্তক্ষেপও করে না। জার্মানি কিংবা ফ্রান্সের বুকেও ঠিক একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে সরকার পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্র কখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে ‘বিরোধী দলের’ তকমা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় না কিংবা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয় না। সেসব দেশে ব্যবসা চলে সম্পূর্ণ নিজস্ব গতিতে এবং আইনের অধীনে-কোনো রাজনৈতিক দলের ইচ্ছা বা ইশারায় নয়। কারণ সেখানকার শাসকেরা খুব ভালো করেই জানেন, একটি কর্মসংস্থান বা ব্যবসার ক্ষতি হওয়া মানে আসলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিরই এক অপূরণীয় ক্ষতি। একইভাবে মালয়েশিয়ার উদাহরণ দেয়া যায়। দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার পালাবদল হলেও কোনো সরকারই দেশের ব্যাংক, হাসপাতাল বা বড় বড় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানায়নি। অথচ আমাদের দেশে ঠিক এর উল্টো এক আত্মঘাতী সংস্কৃতি দৃশ্যমান! এখানে রাজনৈতিক বিরোধিতার জেরে সরকার পরিবর্তন হলেই প্রথম আঘাতটি এসে পড়ে ভিন্নমতের ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। যেন ক্ষমতা বদলের মানেই হলো প্রতিপক্ষকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়ার এক উম্মত্ত লাইসেন্স পাওয়া! এই অপসংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত এবং ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু বিতর্কিত গোষ্ঠীর মাধ্যমে একের পর এক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ জোরপূর্বক পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে, যার নির্মম মাশুল আজ দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ ও নিরীহ গ্রাহকদের। বিশেষ করে ২০১৭ সালে আকস্মিকভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ঘটনাটি দেশের আর্থিক খাতে একটি বড় ঝাঁকুনি দেয়। এর পাশাপাশি ফার্স্ট সিউকিরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা নানা কৌশলে পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই সময়ে ঋণ জালিয়াতি, বেপরোয়া অর্থ আত্মসাৎ এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় ব্যাংকিং খাতকে চরম দুর্বল করে তোলে। বহুল আলোচিত পি কে হালদার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং এফএএস ফাইন্যান্সের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এর ফলে একটি সাজানো গোছানো আর্থিক খাতকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা হলো ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হলেও দেশের ব্যবসায়িক ও আর্থিক খাতে প্রতিশোধমূলক সংস্কৃতির অবসান ঘটেনি।

২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে বিজয়ী হয় এবং একই মাসের ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেন। নতুন সরকারের কাছে দেশের সাধারণ ও মজলুম মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা ছিল- তাঁরা অন্তত বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কায়দায় দেশ পরিচালনা করবেন না; বরং একটি প্রকৃত জনবান্ধব ও মানবিক সরকারে পরিণত হবেন এবং হিংসা-প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে পরিহার করবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ক্ষমতার পরিবর্তনের পরপরই সেই চেনা দমনমূলক রাজনীতির ছায়া আবারও দৃশ্যমান। যার সাম্প্রতিক শিকার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন হাসপাতাল, গত ২৭ মে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ নবজাতকের অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই অবোধ শিশুদের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কোনো কিছুর বিনিময়েই তা পূরণ হবার নয়। হাজার কোটি ডলার ব্যয় করেও কোনো সন্তানকে তাঁর মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। এ ঘটনার তদন্তে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে গত ১১ জুন হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করে দেয়া হয়। অথচ এই আদ-দ্বীন হাসপাতালটি ছিল দেশের লাখ লাখ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের কম খরচে সুচিকিৎসা পাওয়ার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। মাত্র ২০০ টাকা ভিজিটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর সুযোগ এবং মাত্র ৩৮০ টাকায় সাধারণ রোগীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়ার মতো মানবিক সুবিধা এখানে মিলত। তদন্ত সাপেক্ষে সুনির্দিষ্টভাবে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না করে পুরো প্রতিষ্ঠানটি হুট করে বন্ধ করে দেয়ায় সাধারণ মানুষ চরম চিকিৎসা সংকট ও ভোগান্তিতে পড়েছে। যে কোনো একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া সহজ, কিন্তু নতুন করে এমন একটি আস্থার জায়গা গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন। করোনাকালের ভয়ংকর পরিস্থিতি আমাদের এই নির্মম সত্যটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল।

শুধু স্বাস্থ্য বা চিকিৎসা খাতই নয়, দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের ওপরও নতুন করে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি শুধু বাংলাদেশেই নয়; বরং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী শরিয়াভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এমনকি বিশ্বখ্যাত ফিন্যান্সিয়াল ম্যাগাজিন ‘দ্য ব্যাংকার’ এর করা বিশের শীর্ষ ১০০০টি ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশী ব্যাংক হিসেবে একমাত্র ইসলামী ব্যাংক বছরের পর বছর গৌরবময় স্থান পেয়ে আসছে। অথচ সুপ্রতিষ্ঠিত ও দেশের কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় একতরফা রদবদল এবং নানা প্রশাসনিক জটিলতার জেরে সাধারণ গ্রাহকদের ভেতর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেকেই তাঁদের আমানত তুলে নিচ্ছেন। এই বিষয়টি এতটাই উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে যে, স্বয়ং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দেশের বৃহত্তম এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি সত্য নির্মোহভাবে স্বীকার করতেই হবে যে, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা সরাসরি না থাকলেও মরহুম শাহ আব্দুল হান্নান ও শহীদ মীর কাশেম আলীর মতো যোগ্য ও দক্ষ উত্তরসূরীরা ব্যাংকটিকে শূন্য থেকে বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। এই ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গি থাকলেও তাঁরা কর্মক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে নিজেদের পেশাদায়িত্ব ও আমানতদারিতাকে সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। আর এই সততা ও শৃঙ্খলার ফলে ইসলামী ব্যাংক আজ এক বিশাল মহাসুদ্রে পরিণত হয়েছে। অনেকে এই ব্যাংকটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা নেয়ার অভিযোগ তোলেন। কিন্তু বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যোগ্য ও দক্ষ অনুসারীরা একটি ব্যাংককে এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ব্যাংকে পরিণত করেছেন। কিন্তু যারা দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন বা বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন তাঁদের অনেকেরই নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে। কিন্তু সেসব ব্যাংক কোন একটিও আন্তর্জাতিক তো দূরের কথা, দেশের শীর্ষ মানেও নিয়ে যেতে পারেননি। এর ব্যর্থতাও কী জামায়াতে ইসলামীর। ওসব ব্যাংক যে সব রাজনৈতিক দলগুলো পরিচালনা করেছেন তাদের অধিকাংশই লুটপাটের রাজনীতিতে সঙ্গে সম্পৃক্ত। আর ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন তাদের পেশাগত সততা, মেধা ও দক্ষতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন উত্থাপিত করতে পারেনি। কোনো ব্যবসায়িক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে আসে না; বরং তা আসে সততা, নিয়মানুবর্তিতা এবং গ্রাহকের আস্থার মাধ্যমে-যা ইসলামী ব্যাংক বছরের পর বছর প্রমাণ করে দেখিয়েছে। সুতরাং ভিন্নমতের কোনো মানুষও যদি দেশের জন্য ভালো কিছু করে, তবে তাঁকে সুরক্ষা এবং সমর্থন দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন ও নিরাপদভাবে চলতে দেওয়া প্রয়োজন।

আমরা যদি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক দলের তকমা দিয়ে ভাগ করতে শুরু করি, তবে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিবে। রাজনৈতিক আক্রোশে কোনো প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা কারও কাম্য হওয়া উচিত নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানই সরাসরি কোনো দলের অঙ্গপ্রতিষ্ঠন নয়। শুধু সন্দেহের বশে কিংবা বিরোধী শক্তির উত্থানের আশঙ্কায় কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না। কারণ একটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে কেবল একজন মালিকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, তার চেয়ে বড় সত্য হলো- এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা চিরতরে বিপন্ন হয়ে পড়ে।