বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোঃ মোবারক হোসাইন বলেছেন, দ্বীনের পথে ত্যাগ, আদর্শ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার চেতনাকে ধারণ করে আগামী দিনের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে।
আজ রোববার নড়াইল জেলা জামায়াতের এক শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।
জেলা সংগঠন আয়োজিত বিভিন্ন উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও ইউনিয়ন আমীর-সেক্রেটারিদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত হয়।
মোবারক হোসাইন বলেন, আমানতদারিতা একজন মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য। সংগঠনের প্রতিটি দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত একটি আমানত—এ উপলব্ধি হৃদয়ে ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও তাকওয়ার সঙ্গে তা পালন করতে হবে। একজন দায়িত্বশীলের কথাবার্তা, সিদ্ধান্ত, সময়ের যথাযথ ব্যবহার এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আমানতদারিতার পরিচয় ফুটে উঠতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ, আবেগ বা সুবিধার ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠনের বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই একজন প্রকৃত দায়িত্বশীলের পরিচয়। এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী, সুশৃঙ্খল ও আদর্শভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, হত্যা, গুম, খুন, মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, হামলা, নির্যাতন, বিচারিক হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং), নিষেধাজ্ঞা, গণগ্রেফতার সহ এমন কোন অন্যায় নিপীড়ন বা নির্যাতন নেই, যা সংগঠনের উপর প্রয়োগ করা হয়নি।
সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিচারিক হত্যাকাণ্ডের (জুডিশিয়াল কিলিং) মাধ্যমে সংগঠনের বহু রাহবারকে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু ত্যাগ, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার কারণে সংগঠনের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি; বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আহযাবের ২৩ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, "মুমিনদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ নিজের অঙ্গীকার পূর্ণ করেছে এবং কেউ অপেক্ষায় রয়েছে। তারা তাদের অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আনেনি।" তিনি বলেন, আল্লাহর দ্বীনের পথে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের আদর্শ ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, নিয়মিত সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করতে হবে। আগামী দিনের সকল সাংগঠনিক কর্মসূচি সফল করতে ঐক্য, আন্তরিকতা ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সকল কাজের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠনে সর্বোচ্চ ত্যাগ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরও বলেন, জাতীয় সংসদে পবিত্র কুরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কুরআনের ব্যাখ্যা অত্যন্ত দায়িত্বশীল বিষয়। এটি রাজনৈতিক বিতর্ক বা ব্যক্তি-প্রশংসার উপকরণ হতে পারে না। আল্লাহর দেওয়া প্রতিটি নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য। ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে কুরআন-সুন্নাহর যথাযথ মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা। সেখানে এমন বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত, যা জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করবে, ধর্মীয় মূল্যবোধের মর্যাদা রক্ষা করবে এবং জনগণের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে।
শিক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণকারী দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ অর্পিত দায়িত্ব আমানত হিসেবে গ্রহণ করে দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে সুস্থতা, নেক হায়াত ও দ্বীনের খেদমত করার আরও তাওফিক দান করেন—এ জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
দুই দিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরে আদর্শিক, সাংগঠনিক ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণ, আলোচনা এবং মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা এসব সেশন থেকে অর্জিত শিক্ষা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শিক্ষা শিবিরে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর আতাউর রহমান বাচ্চু।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা জামায়াতে ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল বাশার, অধ্যাপক আব্দুল সামাদ, আইয়ুব হোসেন খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।