মানহানির অভিযোগে দায়ের করা সিরাজগঞ্জের দুটি মামলায় স্থায়ী জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজা।
রোববার সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে বিচারক সুমন কর্মকার শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মল্লিক বিষয়টি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে মুফতি আমির হামজা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়ে সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে দুটি মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মুফতি আমির হামজা সিরাজগঞ্জ আদালতে উপস্থিত হন। এ সময় আদালত চত্বরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৭ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে জুমার খুতবার আগে এক আলোচনায় আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।
এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির কর্নেল একটি মানহানির মামলা দায়ের করেন। একই অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভিপি শামীম খান। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই বক্তব্যের মাধ্যমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অভিযোগে দণ্ডবিধির ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় মামলা দুটি দায়ের করা হয়।
নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২১ এপ্রিল আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশেরও নির্দেশ দেন।