জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের মানসম্পন্ন গবেষণাপত্র ও বই প্রকাশে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

রোববার (১৪ জুন) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত 'মেথোডোলজি, রাইটিং, পাবলিকেশন অ্যান্ড কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট' শীর্ষক দিনব্যাপী গবেষণা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি)।

ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, গবেষণার গুণগত মান উন্নয়ন ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও সন্তোষজনক নয়। এ অবস্থার পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণ, সহজবোধ্য ও নির্ভুল একাডেমিক লেখালেখি এবং স্বীকৃত জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার পরিবেশ জোরদার করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি মাসে অন্তত দুটি গবেষণা কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি গবেষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রকাশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

আইকিউএসির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রো-ভিসি প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল রিসার্চ (বিআইএসআর) ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ড. এম খুরশেদ আলম।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, এমফিল ও পিএইচডি গবেষকরা অংশ নিয়ে গবেষণার পদ্ধতি, একাডেমিক লেখালেখি, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা এবং গবেষণার মানোন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।