জাতীয় বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি মানুষের জীবনযাত্রা, প্রত্যাশা, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বুধবার (১৭ জুন) সকাল ১১ টায় ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর উদ্যোগে “প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট : উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ” শীর্ষক এক সেমিনার বক্তারা উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
আলোচনায় বক্তারা প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়নযোগ্যতা, রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক ঋণনির্ভরতা, ব্যাংকিং খাত, করনীতি, কর্মসংস্থান, অর্থপাচার ও দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তাঁরা বাজেট বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, কর ব্যবস্থার সংস্কার এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।
স্বাগত বক্তব্য দেন ওআইআরডির নির্বাহী পরিচালক এবং সিটি ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জুলফিকার হাসান। তিনি বলেন, বাজেটের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও জীবনযাত্রার প্রশ্ন জড়িত। সরকার প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনবান্ধব’ হিসেবে তুলে ধরলেও বিভিন্ন মহল থেকে এর সমালোচনা উঠেছে। তাই বাজেটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে হলে বরাদ্দ, বাস্তবায়ন সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওআইআরডি ফেলো এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স এন্ড ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. যোবায়ের আহমেদ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের সঙ্গে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে। বিশ্লেষণে উঠে আসে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.১৪ শতাংশ থেকে এক বছরে ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে তা ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন। এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি ভবিষ্যতে ঋণের চাপ বাড়াতে পারে। তিনি আরও বলেন, পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে গুণগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণের পরিবর্তে দলীয় স্বার্থকেন্দ্রিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। তাঁর মতে, সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ যদি প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে না পৌঁছে, তবে তা দলীয়করণ ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ঘাটতিকে বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, বাজেটে বেকারত্ব দূরীকরণের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেখা যাচ্ছে না। তিনি ব্যাংকিং খাতের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিকল্পিত লুটপাট ও অলিগার্কিক প্রভাব ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে, যা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।