গাজা উপত্যকা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়মতান্ত্রিক ও পরিকল্পিত হামলাকে ‘গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে কমিশন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে গাজায় মোট নিহতের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু এবং প্রসূতি ও নবজাতক যত্ন কেন্দ্রগুলোতে ধারাবাহিক হামলা ও মানবিক সহায়তা অবরোধের কারণে শিশুদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

জাতিসংঘের এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ফিলিস্তিনের অনাথ আশ্রম এবং বিদ্যালয়গুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। একই সাথে ফিলিস্তিনি শিশুদের অন্যায়ভাবে আটক, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বন্দিশালায় যৌন নিপীড়নের মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে তথাকথিত “যুদ্ধবিরতি” চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরেও আন্তর্জাতিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই হত্যাকাণ্ড এবং গুরুতর জখম করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি পরবর্তী গত আট মাসে প্রতিদিন গড়ে অন্তত একজন ফিলিস্তিনি শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং জাতিসংঘের এই সমন্বিত তথ্যাদি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলমান সংঘাতটি কেবল সামরিক অভিযানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পদ্ধতিগতভাবে নির্মূল করার প্রয়াস। প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মানদণ্ডে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই বাস্তব চিত্রের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।