কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক।
আজ বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে এক সাপ্তাহে ইসলামী ব্যাংককে ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে! এভাবে কত হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া যাবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, গভর্নর যদি একজন অর্থনীতিবিদ হতেন কিংবা অর্থনীতি নিয়ে গভর্নরের যদি পড়াশোনা থাকত তবে তিনি টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংককে ঋণ দেওয়ার মতো আত্মাঘাতী সিদ্ধান্ত নিতেন না। টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সংকট কাটানো যাবে না, বরং সংকট আরো দীর্ঘমেয়াদী করা হচ্ছে। তারল্য সংকট কাটানোর জন্য প্রয়োজন ব্যাংকের সৎ, যোগ্য ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ। তাই দ্রুত ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের সমন্বয়ে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নুর নবী মানিক আরও বলেন, সচেতন গ্রাহক ফোরাম কোন রাজনৈতিক দলের লেজুড়ভিত্তিক সংগঠন নয়। আমরা শুধুমাত্র গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষা ও ইসলামী ব্যাংকের ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠার জন্যই ঐক্যবদ্ধ হয়েছি ও সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে করছি।
সাত দফা দাবি দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাত দফা দাবি বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে। সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে গভর্নরকে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সাত দফা দাবি-
১. অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ইসলামী ব্যাংকের একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন।
২. ২০১৭ সালে গায়ের জোরে ও রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংকের যেসকল শেয়ারহোল্ডারদের থেকে বৈধ মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া।
৩. ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং এস আলমসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
৪. ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করা এবং ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা।
৫. ব্যাংকের লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।
৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনরায় ব্যাংকে পুনর্বাসনের যে ছদ্মবেশী সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করা।
৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য এবং ডাকাত এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার যে প্রচ্ছন্ন আভাস দেওয়া হয়েছে, তা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
উপস্থাপিত সাত দফা দাবি বাস্তবায়িত না হলে, রবিবার ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দেন গ্রাহক ফোরাম। এছাড়াও দাবি আদায়ে ঢাকায় মহাসমাবেশসহ কঠোর কর্মসূচি আসতে পারে বলেও জানান গ্রাহক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।