‘খুলনার বিভাগীয় মহাসমাবেশ হবে জনগণের প্রত্যাশা, আকাঙ্ক্ষা ও দাবিদাওয়ার একটি বৃহৎ গণমঞ্চ। দেশের মানুষ যে সংস্কার, সুশাসন, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করছে, সেই জনমতেরই প্রতিফলন ঘটবে এই সমাবেশে।’
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে জনগণের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা এই সমাবেশ থেকে তুলে ধরা হবে। জনগণের মতামত ও আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশ নেবে। খুলনার এই মহাসমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি হবে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, অধিকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ের মিলনমেলা। সাতক্ষীরাসহ খুলনা বিভাগের সর্বস্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণের জন্য ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।
২০ জুন (শনিবার) খুলনায় অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ সমাবেশে অংশ নিতে পারেন। এ লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচার-প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাবেশে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি বাস ভাড়া করা হয়েছে। প্রতি বাসে গড়ে ৬০ জন হিসেবে প্রায় ২৪ হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক পরিবহন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া ট্রাক, ইজিবাইক, নছিমন, মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ সমাবেশে যোগ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার টাঙানো হয়েছে। পাশাপাশি হ্যান্ডবিল বিতরণ, মসজিদ, বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

সমাবেশ উপলক্ষ্যে জেলা জামায়াতের প্রচারণা
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, “দেশের সাধারণ মানুষ সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা নিয়ে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ২০ জুনের সমাবেশে অংশ নেবে।” তিনি জানান, জেলার সর্বত্র সমাবেশকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, সমাবেশ উপলক্ষে সদর উপজেলা ও সীমান্তবর্তী ভোমরা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রচারণায় অংশ নেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এবং জেলা নেতৃবৃন্দ। হাবিবুর বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সমাবেশ নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধু সদর ও আশপাশের এলাকা থেকেই প্রায় ১০০টি বাস সমাবেশে যাবে।
সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ মানুষেরও দাবি।” তিনি জানান, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
পাটকেলঘাটা এলাকার ইয়াছিন সরদার জানান, “দীর্ঘদিন পর খুলনায় এত বড় রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সমাবেশে অংশ নিতে আমাদের এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সমাবেশে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।”
কলারোয়ার আসাদুজ্জামান ফারুকী জানান, “সংস্কার ও জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সমাবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন।”
শ্যামনগরের আব্দুল হামিদ জানান, “উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বাস, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহনে করে খুলনায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
আশাশুনির রুহুল কুদ্দুস জানান, “সমাবেশকে ঘিরে আশাশুনি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া প্রমাণ করে যে তারা নিজেদের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখতে চায়।”
কালীগঞ্জের ড. মিজানুর রহমান জানান, “এ সমাবেশ শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের বিভিন্ন প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।”
দেবহাটার আবু বক্কর জানান, “সমাবেশ সফল করতে দেবহাটা উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আমরা আশা করছি, দেবহাটা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ খুলনার মহাসমাবেশে যোগ দেবেন।”
সমাবেশের ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পর্কে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, “খুলনার বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরাসহ পুরো খুলনা বিভাগে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং সংস্কার বাস্তবায়নের প্রত্যাশা থেকেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাতক্ষীরা জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যে পরিবহন, স্বেচ্ছাসেবক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “খুলনার বিভাগীয় মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দেশে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলনের দাবিতে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জনগণের ন্যায্য দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সমাবেশে অংশ নেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুলনার মহাসমাবেশ হবে জনগণের প্রত্যাশা ও দাবির একটি বৃহৎ গণমঞ্চ। শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি সফল করতে সকল ধরনের সাংগঠনিক ও লজিস্টিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২০ জুন খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের তথ্যমতে, দুপুর ২টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে নাহিদ ইসলাম, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবানী, মজিবুর রহমান মঞ্জু, রাশেদ প্রধান, ড. অলি আহমদ, মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, ড. মোস্তফা আজিজুর রহমান ইরান এবং এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।