বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, একটি সুন্দর পরিকল্পনা ইসলামি আন্দোলনের সফলতার অন্যতম পূর্বশর্ত। সুপরিকল্পিত কর্মপ্রচেষ্টা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমেই একটি আন্দোলন তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ইসলামি আন্দোলন কোনো আবেগনির্ভর কার্যক্রম নয়; বরং এটি একটি সুসংগঠিত আদর্শিক আন্দোলন। তাই প্রতিটি পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করে ইসলামের বিজয় সুনিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর পুরো জীবন আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর প্রতিটি কর্মপদ্ধতিতে সুপরিকল্পনা, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার অনন্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

আজ ১০ জুলাই সকাল ৭টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার উদ্যোগে ইউনিয়ন আমীর ও সেক্রেটারি এবং পৌরসভার ওয়ার্ড আমীর/সভাপতি ও সেক্রেটারির দিনব্যাপী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ আফজাল হোসাইন।

মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, বর্তমান সময়ে ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের দাওয়াতি কাজ জোরদার করা জরুরী এবং সমাজের সর্বস্তরের জনগণের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, নিয়মিত পর্যালোচনা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে। ব্যক্তি গঠন, সমাজ সংস্কার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সকলকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান আলোচক হিসেবে ঢাকা-১২ আসনের মাননীয় এমপি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, দাওয়াতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভোটার ও নির্বাচনী কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তাদের আদর্শিক ও সাংগঠনিকভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও ধারাবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, সৌজন্য সাক্ষাৎ, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, ইসলামী আদর্শ সম্পর্কে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করলে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন আগ্রহী ব্যক্তিদের ধাপে ধাপে সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে পরিচিত করার জন্য পরিকল্পিত দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সেবা এবং চরিত্র ও আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই একটি টেকসই সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলার কার্যকর উপায়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট মো: মসিউল আলম ব্যক্তি ও সমাজের সার্বিক সংশোধনে কুরআন-সুন্নাহর আদর্শ অনুসরণ এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি সৎ হলে পরিবার সৎ হয়, পরিবার সৎ হলে সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ব্যক্তি গঠনের মাধ্যমেই একটি আদর্শ সমাজ নির্মাণ সম্ভব। বর্তমান সময়ে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অনৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে জাতিকে রক্ষা করতে হলে প্রত্যেক মানুষকে আত্মশুদ্ধির পথে ফিরে আসতে হবে। ঈমান ও তাকওয়া অর্জন, কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ, উত্তম চরিত্র গঠন এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বিরত রাখার দায়িত্ব পালনের কোনো বিকল্প নেই।

সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা আমীর মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সফলতা অর্জনের জন্য দায়িত্বশীলদেরকে সর্বস্তরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, আদর্শিক মানোন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে আন্তরিকতা, ত্যাগ ও কুরবানির মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীলদের নিজেদের চরিত্র, আমল ও আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নিয়মিত রিপোর্টিং, পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তৃণমূলের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশনা প্রদান করেন।

সম্মেলনে পবিত্র কুরআন থেকে দারস পেশ করেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মুফতি মহিউদ্দিন।

এছাড়াও আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের এমপি অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা এবং জেলা নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মোঃ শাহীনুর ইসলাম।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রউফ, সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন ও উপাধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, জেলা রাজনৈতিক সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত সাভার পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হাসান মাহবুব মাস্টার, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক কবিরুজ্জামান, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক আব্দুল কাদের, কাজী বেলাল, লুৎফর রহমান মোল্লা, ইমদাদুল হক, শিক্ষা সম্পাদক অধ্যক্ষ মোঃ তৌহিদ হোসেন, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান জীম ও জেলার বিভিন্ন থানার আমীর প্রমুখ।

পরিশেষে দেশ ও ইসলামি আন্দোলনের সার্বিক সফলতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।