জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ লোপাটের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিগত দিনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশসহ ৫ দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন)-এর উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ১৯ হাজার পিস ওষুধের হিসাব-অনিয়ম ও লোপাটের অভিযোগ সামনে এসেছে। এটি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয় নয়; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং জনআস্থার ওপর একটি গুরুতর আঘাত। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবার জন্য বরাদ্দকৃত ওষুধ যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ হয়ে থাকে, তবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ছাত্রদলের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

স্মারকলিপিতে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি হলো—

১. মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ লোপাটের অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত নিশ্চিত করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।

২. বিগত সময়ে মেডিকেল সেন্টারে ক্রয়, সংরক্ষণ, বিতরণ ও ব্যবহৃত সব ওষুধের পূর্ণাঙ্গ হিসাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

৩. তদন্তে অভিযুক্ত বা দায়ী হিসেবে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে—যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।

৪. মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ ক্রয়, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থায় ডিজিটাল ইনভেন্টরি, নিয়মিত অডিট এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে; যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

৫. শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, উপাচার্যের নেতৃত্বে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তারা বিশ্বাস করে। অন্যথায় শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।