জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ডিজিটাল দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে একটি মানসম্মত ও সুনির্দিষ্ট ‘রিসোর্স মেটেরিয়াল’ এবং গাইডলাইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মশালায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের তরুণ-তরুণীরা মোটেও ডিজিটাল জ্ঞানে পিছিয়ে নেই। প্রায় সবার হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে এবং তারা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয়। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরির পেছনে ছুটছে না, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, ফ্রিল্যান্সিং ও অনলাইন উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতিও তাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এই আগ্রহকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে প্রয়োজন পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত দিকনির্দেশনা।
ডিজিটাল লিটারেসি ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় এক দশক আগে পরিচালিত তাঁর এক গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লিটারেসির হার ছিল মাত্র ১৯ শতাংশ। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীল আচরণ ও সচেতনতার ঘাটতি এখনো রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অযথা বিদ্রূপ ও ট্রলের সংস্কৃতি থেকে তরুণদের বের করে এনে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও যুবসমাজকে ভুল পথে যাওয়ার প্রবণতা থেকে ফিরিয়ে আনতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ভিসি আরও বলেন, এই কোর্সের সফলতা নির্ভর করবে এর মানসম্মত বাস্তবায়নের ওপর। এজন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ মডিউল, শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা-উপকরণ, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতি। এ কর্মশালায় প্রণীত শিক্ষা-উপকরণ দেশের লাখো শিক্ষার্থীর শেখার অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান কর্মক্ষেত্রে শুধু একাডেমিক জ্ঞান যথেষ্ট নয়; ডিজিটাল লিটারেসি, তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা, কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, দলগত কাজ এবং প্রযুক্তির সৃজনশীল ব্যবহারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তুলতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণ-পদ্ধতির সংস্কার করছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতা কার্যকর অংশীদারিত্ব হিসেবে কাজ করছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. রুহুল কুদ্দুস। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, পেডাগজি ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কোর্স ডিজাইন বিশেষজ্ঞ, ফ্যাসিলিটেটর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।