ববি সংবাদদাতা: বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) মাইশা চত্বর (ভোলার মোড়) সংলগ্ন রাস্তার পাশের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেতার নাম মিনহাজ সাগর। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে সরকারি জায়গার একাংশে একটি বাস কাউন্টার এবং অন্য অংশে ছাউনি দিয়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই স্থান দখল করে স্থাপনা তৈরির সময় পার্শ্ববর্তী একটি মাছের দোকান ও অন্য একটি বাস কাউন্টারের লোকজনের সাথে মিনহাজ সাগরের বাক-বিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাঁর সাথেও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন মিনহাজ সাগর।
এ ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, দখলকৃত দোকানের পার্শ্ববর্তী এক দোকানদার স্পষ্ট অভিযোগ করছেন যে—মিনহাজ সাগর জোরপূর্বক ওই জায়গা দখল করে দোকান দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওটি ধারণ ও সংগ্রহ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন স্বজন। পরবর্তীতে স্বজন স্বীকার করেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশেই তিনি ওই ভিডিওটি করেছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমার সামনেই জায়গা দখল করে ছাউনি দেওয়া এবং বাকবিতণ্ডার ঘটনাটি ঘটেছে। ওখানকার মাছের দোকানদার সাধারণত ওই খালি জায়গায় তাঁর গাড়ি রাখতেন। কিন্তু মিনহাজ সেখানে দোকান দেবেন দাবি করে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেন। দোকানদারের সাথে আমার সুসম্পর্ক থাকায় তিনি আমাকে ফোন করেন। আমি বিষয়টি সমাধান করতে গেলে মিনহাজ আমার সাথেও চরম দুর্ব্যবহার করেন।"
তবে জায়গা দখলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মিনহাজ সাগর। যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি জমি দখল করে দোকান দেওয়ার ঘটনার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই। যেদিন ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়েছিল, সেদিন আমি কেবল সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তবে সেখানে সামান্য যে ঝামেলা হয়েছিল, সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়।"