সুন্দরবনের গভীরে বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সাথে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলিতে শওকত সরদার (৬০) নামের এক বনদস্যু নিহত হয়েছে। এসময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রবিউল বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামসহ দু’জন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুন্দরবনের মধ্যে কোস্ট গার্ডের বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা গোলাগুলির ঘটনায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টা থেকে সুন্দরবনের ময়দাফেসা খাল এলাকায় শুরু হওয়া অভিযান রাতভর গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এ ঘটনায় এক বনদস্যু নিহত ও দু’জন আটকের ঘটনা ঘটে।
নিহত শওকত সরদার খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত এজাহার সরদারের ছেলে। অন্যদিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক রবিউল ইসলাম (৫০) একই এলাকার মৃত মানিক গাজীর ছেলে। বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এছাড়া শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে তেঁতুলতলার চর এলাকা থেকে লোকালয়ে পালিয়ে আসার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন গুলিবিদ্ধ আরেক সদস্য ইসরাফিল হোসেন (২৬)। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, কোস্ট গার্ড সদস্যরা গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত রবিউল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম জানান, শওকত হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান এবং তার শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল।
স্থানীয়রা জানান, রাতভর বন থেকে ভেসে আসা গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে মনে হয় দু’টি ডাকাত দলের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। পরে শোনা যায় এটি কোস্ট গার্ডের অভিযানের অংশ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত শওকত সরদারের ছেলে মফিজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, দলের সদস্যদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য দেওয়া প্রায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে তিনি ভারতে চলে যান। এর জেরে প্রথমে তার ছোট ভাইকে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দিয়ে শওকত সরদারকে বনের ভেতরে জিম্মি করে রাখা হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ধারণা, গোলাগুলির সময় সেই অবস্থাতেই তিনি নিহত হন।
এদিকে, কয়রার বনজীবী আজিজুল ইসলাম দাবি করেন, ১০-১২ দিন আগে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে তাকেও অপহরণ করা হয়েছিল। তার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিনি বলেন, গত রাতের গোলাগুলির সময় পালিয়ে আসেন এবং সেখানে শওকত সরদারকে দেখেছেন, যাকে রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বোটে অবস্থানরত ডাকাত সদস্যরা আগে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড পাল্টা গুলি করে। অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং পলাতক সদস্যদের আটকের লক্ষ্যে অভিযান এখনো চলমান।