গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ পৃথকভাবে অভিযান ও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সাতজনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।
কারা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কারাগারের ভেতরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মেট্রনদের তদারকিতে ঘাটতির সুযোগ নিয়ে বন্দি রিম্পা (২১) অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে কারাগারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পলায়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার মো. হাসানের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সি.আর. মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে দণ্ড ভোগ করছিলেন।
এর আগে বন্দি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এ বিষয়ে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন জানান, কারাগার থেকে এক নারী বন্দি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জিডি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কারা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিন বিকেল ৫টার মধ্যে সব বন্দিকে নিজ নিজ ওয়ার্ডে লকআপে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঐদিন নির্ধারিত সময়ে লকআপ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ সুযোগেই রিম্পা কৌশলে কারাগারের নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে পালিয়ে যান বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এআইজি মো. জান্নাতুল ফরহাদ বলেন, পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে এই পলায়নের ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।